Categories
ভিডিও লাইফ স্টাইল

এইভাবে কাশ্মীরি চিকেন বানালে স্বাদ হবে দুর্দান্ত, হাত চাটবে আট থেকে আশি, শিখে নিন রেসিপি

মৎস্যপ্রিয় বাঙালির পছন্দের খাদ্যতালিকা মাংস ছাড়া একেবারে অসম্পূর্ণ। দুপুরবেলা গরম ভাতের সাথে কিংবা যেকোন অনুষ্ঠান চিকেন কিংবা মাটনের যেকোন লোভনীয় পদ থাকবেই। মাংসের ঝোল থেকে শুরু করে কাবাব কিংবা স্ন্যাকসের জন্য সুস্বাদু পকোড়া সবেতেই মাংসের জয়জয়কার। বিভিন্ন উপাদান দিয়ে নানা ভাবে মাংস রান্না করা যায়। একেবারে সাধারণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিংবা রেস্টুরেন্ট স্টাইলে যেভাবেই হোক বাঙালি মাংসের যেকোন পদেই তৃপ্তি খুঁজে পায়।

উপকরণ :
১. চিকেন
২. নুন
৩. হলুদ গুঁড়ো
৪. লাল লংকার গুঁড়ো
৫. সর্ষের তেল
৬. পেয়াঁজ
৭. আদা বাটা
৮. রসুন বাটা
৯. টমেটো বাটা
১০. কাশ্মীরি লাল লংকার গুঁড়ো
১১. ধনে গুঁড়ো
১২. জিরে গুঁড়ো
১৩. গোলমরিচ গুঁড়ো
১৪. গরম মশলা
১৫. টক দই
১৬. দুধ
১৭. চিনি
১৮. ধনে পাতা

প্রণালী :
১ কেজি চিকেনকে ভালো করে ধুয়ে ১/২ চামচ হলুদে গুঁড়ো , লাল লংকার গুঁড়ো এবং স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। ৫ থেকে ১০ মিনিট এইভাবে মাংসকে ম্যারিনেট করে রাখতে হবে।

এর পরে কড়াই গরম করে এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে পরিমাণের থেকে একটু বেশি সর্ষের তেল। তেল ভাল করে গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে ম্যারিনেট করে রাখা মাংসের টুকরোগুলোকে দিয়ে ৩ থেকে ৪ মিনিট উল্টেপাল্টে হালকা করে ভেজে নিতে হবে। চিকেনগুলো হালকা করে ভাজা হয়ে গেলে কড়াই থেকে তুলে নিয়ে আলাদা পাত্রে রেখে দিতে হবে।

মাংস ভাজার তেলের মধ্যেই দিয়ে দিতে হবে ৩টি বড় আকারের পেয়াঁজ কুচি। পেয়াঁজকে ৫ থেকে ৬ মিনিট ভালো করে ভেজে নেওয়ার পরে এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে ২ টেবিল চামচ আদা রসুন বাটা। গ্যাসের আঁচ কমিয়ে দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ভাল করে কষিয়ে নিতে হবে। আদা রসুন বাটা থেকে কাঁচা গন্ধ চলে গেলে এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে বড় আকারের ২টো টমেটো বাটা।

টমেটো বাটা ভালো করে কষে শুকিয়ে এলে দিতে হবে ১ টেবিল চামচ কাশ্মীরি লংকার গুঁড়ো, ১/২ টেবিল চামচ লাল লংকার গুঁড়ো , ১ এবং ১/২ টেবিল চামচ ধনে গুঁড়ো এবং ১ চামচ জিরে গুঁড়ো,সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো এবং অল্প পরিমানে গরম মশলা। পরিমানমত লবণ দিয়ে সমস্ত মশলাগুলিকে ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। মশলা কষানোর সময় গরম জল ব্যবহার করলে রান্নার স্বাদ ভালো হয়। তাই মশলা কষে শুকিয়ে এলে যোগ করতে হবে অল্প পরিমাণে গরম জল।

এইভাবে ভালো করে কষিয়ে নেওয়ার পরে এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে ৩ টেবিল চামচ ফেটানো টক দই। গ্যাসের আঁচ আবার কমিয়ে দিয়ে গ্রেভির সাথে ফেটানো টক দই ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। মশলা ভালো করে কষে গিয়ে তেল বেরোতে শুরু করলে এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে ১ গ্লাস দুধ।

দুধ ঘন হয়ে না আসা পর্যন্ত ভালো করে নাড়াচাড়া করে নিতে হবে। দুধ যোগ করার আগে ভালো করে গরম করে নিয়ে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। ৫ থেকে ৬ মিনিট রান্না করার পরে ভাজা চিকেনগুলো দিয়ে দিতে হবে। মশলার সাথে ৫ মিনিট ধরে মাঝারি আঁচে ভাল করে চিকেন কষিয়ে নিতে হবে। চিকেন কষানোর সময় বারবার ভালো করে নাড়াচাড়া করে নিতে হবে যাতে কড়াইয়ের নিচে ধরে না যায়।

চিকেন ভাল করে কষানো হয়ে এলে দিয়ে দিতে হবে গরম জল। ১০ মিনিট মত কড়াইয়ের ঢাকা বন্ধ করে দিতে হবে যতক্ষণ না চিকেন ভাল করে সেদ্ধ হয়ে যায়। এর মাঝে ঢাকা খুলে প্রয়োজন হলে লবণ দিতে হবে। এই পর্যায়ে যোগ করতে হবে অল্প পরিমাণে চিনি। দুধ এবং দইয়ের সাথে এই রান্নায় চিনি যোগ করলে স্বাদ আরও ভাল হবে। ৫ থেকে ৬ মিনিট এইভাবে ঢাকা দিয়ে রান্না করার পরে দিয়ে দিতে হবে ধনে পাতা কুচি।

এর কিছুক্ষণ পরে গ্যাস বন্ধ করে দিতে হবে। সাধারণ ঘরোয়া মশলা দিয়েই মাংসের এই অসাধরণ পদটি পরিবেশনের জন্য একদম তৈরী।

Categories
লাইফ স্টাইল

বাড়িতে লাগান এই ফুলের গাছ, দূর হবে অর্থনৈতিক সংকট

বাস্তুশাস্ত্র মতে বাড়িতে কাঠ করবীর গাছ থাকলে তা গৃহ শান্তি মেটাতে এবং লক্ষীর কৃপাদৃষ্টি লাভে সহায়তা করে। জীবনের নানা রকমের সমস্যা সমাধানের উপায় রয়েছে বাস্তুশাস্ত্রে। এইসব উপায়ের সাহায্যে খুব সহজেই গৃহদোষ কেটে গিয়ে সুখ শান্তি এবং অর্থনৈতিক সাফল্য আসে।

মূলত তিন প্রকার ফুল দেখতে পাওয়া যায় এই গাছটির। বিভিন্ন রঙের ফুলের মাহাত্ম্য বাস্তু মতে বিভিন্ন। করবী মূলত লাল গোলাপি বা সাদা ফুলবিশিষ্ট চিরহরিৎ গুল্ম। অনেকেই এই গাছকে বন্য উদ্ভিদ বলে মনে করলেও সেটা ভুল তথ্য। কারণ বাস্তুমতে এই গাছটি লক্ষী দেবীর প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হয়। আলাদা করে কোন যত্ন ছাড়াই এই গাছ জন্মাতে পারে এবং বৃদ্ধি পায়। পার্ক কিংবা রাস্তার পাশে প্রায়শই এই গাছ দেখতে পাওয়া যায়। অনেকেই বাড়িতে এই গাছ রাখতে পছন্দ না করলেও বাস্তুমতে আলাদা তাৎপর্য রয়েছে এই গাছটির।

কাঠ করবী গাছের সাদা ফুল বাস্তু মতে দেবী লক্ষীর প্রিয়। অন্যদিকে ভগবান বিষ্ণু পছন্দ করেন হলুদ রং। তাই সাদা ফুল দেবী লক্ষীকে নিবেদন করলে তিনি সন্তুষ্ট হবেন। অন্যদকে হলুদ ফুল দিয়ে পুজো করলে ভগবান বিষ্ণুর কৃপাদৃষ্টি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাস্তুবিদরা। তাই বাস্তুমতে যাঁরা অর্থকষ্টে রয়েছেন তাঁরা এই গাছ রোপন করলে ভাল ফল পাবেন।

তবে এই গাছটিকে বাড়ির উত্তর কিংবা উত্তর-পূর্ব দিকে রোপন করলেই মা লক্ষীর আশীর্বাদ পাওয়া যাবে। বাড়িতে শুভ অনুষ্ঠানের আগে কাঠ করবী গাছ বাড়িতে আনলে বিষ্ণুদেবতার আশীর্বাদে সম্মান এবং প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে। এই গাছ বাড়িতে থাকলে ইতিবাচক শক্তির বিকাশ ঘটবে । বাড়ির প্রবেশ দ্বারের কাছে এই গাছ রোপন করলে বহু সমস্যা কেটে যায় এবং বাড়িতে ইতিবাচক শক্তি বিরাজ করে বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ বাস্তুবিদরা। এই গাছে সারা বছর ফুলের সমাহার দেখতে পাওয়া যায়।

তাই একবার রোপন করলে সারা বছর যেমন ভগবানের পুজোর জন্য ফুল পাওয়া যাবে তেমনি অর্থকষ্টও থাকবে না। আর্থিক দিক থেকে এই গাছটি ভাল হলেও এই গাছের ফুলের বীজ খুব বিষাক্ত। সেই কারণে শিশুরা যাতে এই গাছের কাছে যেতে না পরে সেইদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

Disclaimer : বাস্তুবিদদের অভিজ্ঞ পরামর্শ এবং মতামত অনুযায়ী প্রতিবেদনটি লিখিত। ব্যক্তিবিশেষে এর ফলাফল আলাদা হতে পারে। সংবাদ২৪অনলাইন এই তথ্যের সত্যতা বিচার করেনি। এক্ষেত্রে প্রয়োগের পূর্বে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ আবশ্যক ।

Categories
লাইফ স্টাইল

জমি ছাড়াই বাড়ির টবে বেগুন চাষ, ফলন হবে দুর্দান্ত, শিখে নিন সহজ পদ্ধতি

বেগুন একটি অন্যতম উপকারী সবজি। এর পুষ্টিগুণ প্রচুর। এখন সারা বছর বাজারে সস্তায় পাওয়া গেলেও বেগুন মূলত শীতকালীন সবজি। তবে বাজারের রাসায়নিক জাত বেগুনের থেকে বাড়ির টবে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পাওয়া সবজির উপকারিতা অনেক বেশি। তবে বেগুনের কারণে অনেকেরই শরীরে আল্যার্জি হয়। তাঁরা এই সবজি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।

বেগুনের অনেক উপকারিতা রয়েছে। বেগুনের মধ্যে উপস্থিত ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী। এছাড়া ত্বক ভালো রাখতেও এর জুড়ি মেলা ভার। উপকারী এই সবজিটি শরীরের খারাপ কোলেস্টরলকে কমিয়ে শরীর সুস্থ রাখে। এছাড়া বেগুনে ক্যালোরি কম থাকায় স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা ওজনের বাড়ার ভয় না করে বেগুন খেতে পারেন। বর্তমানে ইনসোমিয়া কিংবা ঘুম না আসার সমস্যা অনেকের মধ্যে রয়েছে। আয়র্বেদিক মতে বেগুন খেলে এই সমস্যার সমাধান হয়।

বাড়িতে বেগুন চাষ করতে গেলে প্রথমে টব কিংবা বালতির প্রয়োজন।

১. বালতি কিংবা টবের মধ্যে দোআঁশ এবং গোবর সার মিশিয়ে বেগুন চাষের জন্য জমি তৈরী করে নিতে হবে।

২.নার্সারি কিংবা কোনো ভালো দোকান থেকে বেগুন গাছের চারা নিয়ে এসে মাটিতে ভালো করে পুঁতে দিতে হবে। তবে বেগুনের বীজ কিনে এনে তার থেকে চারা বেরোলে সেই চারাও ব্যবহার করা যাবে। তবে একটি টবের মধ্যে দুটির বেশি চারা একসাথে বসানো উচিত নয়।

৩. চারা গাছ মাটিতে ভালো করে পুঁতে দেওয়ার পরে জল দিয়ে ভালো করে মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে। এইভাবে গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করলে ১৫ দিনের মধ্যে গাছটি বেশ বড় হয়ে যাবে।

৪. তবে বেগুন গাছে পোকার উপদ্রব খুব বেশি পরিমানে হয়। সেই জন্য পোকার উপদ্রব থেকে গাছকে বাঁচানোর জন্য ব্যবহার করতে হবে রাসায়নিক সার। সারের জন্য প্রয়োজন ১০ গ্রাম ফুরাডান যা গাছের গোড়ায় দিয়ে দিতে হবে। এর পরে একে একে ৬ গ্রাম ভিটামিন গুঁড়ো , ১৫ থেকে ২০ গ্রাম টিএসপি সার এবং ৮ থেকে ১০ গ্রাম ইউরিয়া সার দিতে হবে যা গাছের নাইট্রোজেনের অভাব পূরণ করবে। ৮ থেকে ১০ গ্রাম পটাস সার দেওয়ার পরে গোবর সার এবং মাটি দিয়ে গাছের গোড়াকে ভালো করে ঢেকে দিতে হবে।

৫. ৩০ দিন পরে বেগুন গাছ বড় হয়ে গেলে মাচার সাহায্যে বেঁধে দিতে হবে। ৪০ থেকে ৫০ দিন পর খাওয়ার উপযোগী বেগুন ফলবে।

Categories
লাইফ স্টাইল

এইভাবে পটলের ভর্তা বানালে স্বাদ হবে দুর্দান্ত, গরম ভাতের সাথে জাস্ট জমে যাবে

পটল একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং উপাদেয় সবজি। ডালের সাথে পটল ভাজা বাঙালির প্রিয় পদের মধ্যে অন্যতম। তবে পটলের অন্যান্য পদও বাঙালির খুব প্রিয়। পটলের ভর্তা তার মধ্যে অন্যতম। গরম ভাতের সাথে এই সুস্বাদু পদটি দুপুরে কিংবা রাতের খাওয়ার জন্য একেবারে আদর্শ। পটলের একঘেঁয়ে পদ থেকে এই পদটি অনেকটাই আলাদা।

উপকরণ :
১. পটল
২. জল
৩. সর্ষের তেল
৪. শুকনো লঙ্কা
৫. কালোজিরে
৬. রসুন
৭. কাঁচালঙ্কা
৮. পেয়াঁজ
৯. হলুদ গুঁড়ো
১০. লাল লংকার গুঁড়ো
১১. নুন
১২. চিনি

প্রণালী :
এই প্রথমে ৫০০ গ্রাম পটলকে ভাল করে ধুয়ে একটু খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। যেহেতু পটলের খোসার মধ্যেও খাদ্যগুণ বর্তমান সেইকারণে সমস্ত খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া উচিত হবে না। এর পরে পটলগুলিকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। একটি কড়াইতে অল্প পরিমাণে জল দিয়ে পটলগুলিকে ভালো করে ভাপিয়ে নিতে হবে। পটল ভাপানো হয়ে গেলে একটি মিক্সিতে ভাপা পটলগুলিকে ভাল করে পেস্ট করে নিতে হবে।

কড়াইতে পরিমাণমতো তেল দিয়ে ভালো করে গরম করতে নিতে হবে। তেল ভালো করে গরম হয়ে গেলে দিয়ে দিতে হবে অল্প পরিমাণে কালোজিরে এবং ৩ থেকে ৪টি শুকনো লঙ্কা। শুকনো লঙ্কা কিছুটা ভাজা ভাজা হয়ে গেলে কয়েকটি লঙ্কা তুলে নিয়ে আলাদা করে রাখতে হবে।

এইবারে তেলের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে আগে থেকে থেঁতো করে রাখা ১০ থেকে ১২ টা রসুন। রসুনের স্বাদ তেলের মধ্যে ভালো করে মিশে গেলে এর মধ্যে দিতে হবে ৩টি কাঁচালঙ্কা এবং ২টি মাঝারি আকারের পেয়াঁজ। সবগুলি ভালো করে মিশিয়ে নেওয়ার পরে এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে অল্প পরিমাণে হলুদ গুঁড়ো এবং সামান্য লাল লংকার গুঁড়ো। সমস্ত উপকরণকে ভালো করে মিশিয়ে নেওয়ার পরে পটলের মিশ্রণটিকে দিয়ে দিতে হবে।

এইবারে মাঝারি আঁচে ভালো করে মিশ্রণটিকে মশলার সাথে নাড়া চাড়া করে নিতে হবে। মিশ্রণটি যত ঘন হয়ে আসবে স্বাদও তত ভালো হবে। এই পর্যায়ে স্বাদমতো নুন এবং চিনি দিয়ে দিতে হবে আর এর সাথে দিয়ে দিতে হবে আগে থেকে আলাদা করে রাখা শুকনো লঙ্কা ভাজা।

এইভাবে ভালো করে ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করে নিলেই সুস্বাদু পটলের ভর্তা পরিবেশনের জন্য তৈরী হয়ে যাবে।

Categories
লাইফ স্টাইল

প্রাকৃতিকভাবে চুলের যত্ন নিতে ঘরেই তৈরি করুন মেথির ৫টি হেয়ার প্যাক

রান্নাঘরে ব্যবহৃত পরিচিত উপাদানগুলি মধ্যে অন্যতম হল মেথি। তবে শুধুমাত্র রান্নাঘরেই নয় ঘরোয়া নানা প্রতিকারেও বেশ কার্যকরী মেথি। স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বক এবং চুলের যত্নেও খুব কার্যকরী এটি।

শরীরে রক্তের ভারসাম্য বজায় রাখা থেকে শুরু করে চুল পড়া রোধ করতেও সাহায্য করে এই মেথি। এর নানা ধরণের উপকারিতার জন্য একে অনেক ক্ষেত্রেই ‘সুপার ফুড’ বলে মানা হয়। বেশ কিছু গবেষণা এবং স্বাস্থ্য সমস্যায় মেথির কার্যকারিতার উল্লেখ রয়েছে। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল সুন্দর চুলের জন্য মেথি বেশ কার্যকরী। চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে মেথিকে নানাভাবে ব্যবহার করা যাবে।

১. মেথির তেল সারাবছর মাথায় মাখলে চুলের গোড়া মজবুত হওয়ার সঙ্গে চুল পড়াও বন্ধ করতে সাহায্য করবে এটি। ২ থেকে ৩ চামচ মেথি নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে ভালো করে ফোটাতে হবে। মেথির বীজ এবং তেল ব্রাউন রঙের হয়ে গেলে নামিয়ে নিতে হবে। ঠাণ্ডা হলে চুলের গোড়ায় হালকাভাবে ভালো করে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে তেল গরম থাকাকালীন মাথায় দেওয়া যাবে না। দুই থেকে তিন সপ্তাহ এইভাবে মেথির তেল ব্যবহার করলে চুলের অনেক সমস্যার সমাধান হবে।

২. চুলে অনেকেই সপ্তাহান্তে কিংবা মাঝে মধ্যে ডিম ব্যবহার করেন। ডিম চুলের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব উপকারী। হাফ কাপ মেথির সাথে একটা অথবা দুটো ডিমের সাদা অংশ ভালো করে মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরী করে নিতে হবে। তবে এই মিশ্রণ তৈরী করে নেওয়ার আগে মেথিকে সারারাত ভালো করে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এই মিশ্রণটি চুলে ভালো করে লাগিয়ে আধঘণ্টার জন্য রেখে দিতে হবে। এর পরে শ্যাম্পু দিতে হবে। সপ্তাহে একদিন করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

৩. তবে সময় এবং পারিপার্শ্বিক উপাদানের অভাবে মেথির সাথে অন্য উপকরণ না মিশিয়ে শুধুমাত্র মেথি ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে। আগের দিন রাতে মেথি ভালো করে ভিজিয়ে পরেরদিন পেস্ট তৈরী করে নিতে হবে। এই মিশ্রণটিকে চুলের গোড়ায় আধঘণ্টা রেখে দেওয়ার পরে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে দু’দিন করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। তবে একদিন করলেও হবে।

৪. এছাড়া খুশকি কমাতে মেথি এবং ত্বক দইয়ের মিশ্রণ খুব কার্যকরী। ৪ থেকে ৫ চামচ মেথি আগের দিন রাতের বেলা ভিজিয়ে রেখে পরেরদিন এর একটি মিশ্রণ তৈরী করে নিতে হবে। ৪ কাপ দইয়ের সাথে এই মিশ্রণটিকে ভালভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিটে রেখে দিতে হবে। এর পরে চুলে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। সপ্তাহে তিনদিন এই মিশ্রণ ব্যবহার করলে খুশকির সমস্যা দূর হবে।

৫. যাদের স্ক্যাল্প খুব তৈলাক্ত তাঁদের ক্ষেত্রেও মেথি খুব উপযোগী। ২ চামচ মেথিকে আগের দিন ভালো ভাবে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। এর পরে এর সাথে মেশাতে হবে ২ চামচ আপেল সিডার ভিনিগার। পুরো মিশ্রণটিকে ভালোভাবে চুলে মিশিয়ে শ্যাম্পু করে নিলেই এই সমস্যা থেকে সমাধান মিলবে অতি সহজে। এইভাবে মেথি ব্যবহার করলে মাত্র একমাসের মধ্যেই ভাল ফল পাওয়া যাবে।

সতর্কীকরণ : যাদের মেথিতে আল্যার্জি রয়েছে তাঁরা এই বিশেষ ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। শুধুমাত্র সংবাদ ২৪ অনলাইনের এই প্রতিবেদন পড়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।

Categories
লাইফ স্টাইল

গরম ভাতের সাথে খাওয়ার জন্য ‘চিংড়ি ভাপা’, স্বাদ হবে দুর্দান্ত, শিখে নিন রেসিপি

চিংড়িমাছ বাঙালির অন্যতম প্রিয় পদ। বাঙাল হোক বা ঘটি চিংড়িমাছ সকলেই ভালবাসেন। যে কোন রান্নাতেই চিংড়িমাছ ব্যবহার করলেই সেই রান্না একটা আলাদা মাত্রা পায়। চিংড়িমাছের একটা নতুন রেসিপি আজ রইল। ‛চিংড়ি ভাপা’ কী ভাবে বানাবেন চলুন তবে দেখে নেওয়া যাক।

উপকরণ:
১.চিংড়ি মাছ ২৫০ গ্রাম
২.নুন স্বাদমত
৩.হলুদ ১ চামচ
৪.কালো সরষে ১/২ চামচ
৫.হলুদ সরষে ১/২ চামচ
৬.পোস্ত ১ টেবিল চামচ
৭.কাঁচালঙ্কা চেরা ৪-৫টি
৮.লঙ্কার গুঁড়ো ১/২ চামচ
৯.নারকেল কুচি ২ চামচ
১০.চিনি স্বাদমত
১১.টকদই ২.৫ চামচ
১২.সরষের তেল ৪ চামচ

প্রনালী:
প্রথমে ২৫০ গ্রাম চিংড়ি মাছকে খোসা ছাড়িয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর মাছ ধুয়ে নুন, হলুদ গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে মিনিট দশেক রেখে দিতে হবে। এরপর একটি মিক্সিং জারে ১ টেবিল চামচ কালো ও হলুদ সরষে, ১ টেবিল চামচ পোস্ত, ৪-৫ টা কাঁচালঙ্কা, হলুদ গুঁড়ো, লাল লঙ্কার গুঁড়ো, কিছুটা নারকেল কুচি, স্বাদমতো নুন, চিনি ও সামান্য জল দিয়ে পেস্ট করে নিতে হবে।

এরপর মিশ্রণটিকে একটি টিফিনবক্সে ঢেলে নিয়ে এর মধ্যে ২.৫ টেবিল চামচ টকদই দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর ম্যারিনেট করে রাখা চিংড়ি মাছ ও ১.৫ টেবিল চামচ সরষের তেল টিফিনবাক্সে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর উপর দিয়ে গোটা কাঁচালঙ্কা দিয়ে দিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে দিতে হবে। এরপর একটি কড়াইতে কিছুটা জল গরম করে তারমধ্যে স্ট্যান্ড বসিয়ে টিফিন বক্স বসিয়ে ঢেকে মিনিট ১২ রান্না করে নিলেই একেবারে তৈরি ‛চিংড়ি ভাপা’। গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।

Categories
লাইফ স্টাইল

১২ মাস বাড়ির ছাদেই চাষ করুন বরবটি, শিখে নিন সহজ পদ্ধতি

পুষ্টিগুণে ভরপুর বরবটি চাষ বাড়িতেই সম্ভব। বাঙালি বাড়িতে এই সবজিটির ভালো চাহিদা রয়েছে। তবে বাজারে যেসব সবজি পাওয়া যায় বেশিরভাগ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরী। বাড়িতে প্রাকৃতিক উপায়ে বরবটি চাষ করলে তার পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।

বরবটিতে উপস্থিত ভিটামিন সি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রন শোষণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়া ক্ষতিকর কোলেস্টোরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। উচ্চরক্তচাপ , বুক জ্বালা পোড়া প্রভৃতি রোগ নিরাময়েও বরবটি বেশ উপকারী।

বাড়ির উঠানে খুব সহজে এই সবজি চাষ করা যাবে। তবে উঠোনে জায়গা না থাকলে ছাদে কিংবা ড্রামের মধ্যেও এই সবজিটি চাষ করা যাবে।

১. এই সবজি চাষের জন্য প্রয়োজন দোআঁশ এবং বেলে দোআঁশ মাটি। টব কিংবা বালতিতে গোবর সারের সাথে এই দোআঁশ মাটি মিশিয়ে মাটি একেবারে ঝুরঝুরে করে দিতে হবে।

২. বরবটি বীজকে আগের দিন রাতের বেলায় ভিজিয়ে রাখতে হবে। কোন ভাল নার্সারি থেকে বীজ কিনে নিতে হবে আগের দিন।

৩. এর পরে মাটির মধ্যে বীজ দিয়ে গোবর সার দিয়ে ভালো করে মাটি ঢাকা দিয়ে দিতে হবে।

৪. বেশ কিছুদিন পরে গাছের চারা বেরোবে। চারা বড়ো হলে উপযুক্ত পরিমানে জল দিয়ে মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে এবং আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

৫. সার হিসাবে গোবর সার এবং সর্ষের পচা খোল ব্যবহার করতে হবে। সরাসরি গাছের গোড়ায় না দিয়ে সার গাছের গোড়া থেকে একটু দূরে চারপাশে দিয়ে দিতে হবে।

৬. পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছকে বাঁচাতে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। তবে দু লিটার জলের মধ্যে দু চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়ে ৫ থেকে ৬ দিন অন্তর অন্তর গাছের গোড়ায় স্প্রে করলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

৭. বীজ বোনার দু’মাস পরেই খাওয়ার জন্য উপযুক্ত বরবটি পাওয়া যাবে।

Categories
লাইফ স্টাইল

কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই বাড়িতে করলা চাষের সহজ পদ্ধতি শিখে নিন

সবুজ সবজি করলা তেতো হলেও এর প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে। এর মধ্যে অনেক রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান রয়েছে যা মানুষের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বাজারজাত সবুজ শাকসবজির চেয়ে বাড়িতেই যদি প্রাকৃতিকভাবে সবজি চাষ করা যায় তাহলে এর পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। বাড়িতেই খুব সহজেই ফলানো সম্ভব এই সবজি।

তেতো এই সবজিতে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে লৌহ , ভিটামিন এ এবং সি। এই সবজিতে যে এন্টি অক্সিডেন্ট-ভিটামিন ,এ এবং সি রয়েছে তা অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও করলায় রয়েছে রোগ প্রতিরোধকারী লুটিন এবং ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য উপযোগী লাইকোপিন। এছাড়াও করলা শরীরের খারাপ কোলেস্টোরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টোরলের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

বাড়িতে করলা চাষ করতে গেলে প্রয়োজন উপযুক্ত মাটি এবং গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।
১. প্রথমে দোআঁশ এবং গোবর সার মিশিয়ে চাষের উপযুক্ত মাটি তৈরী করে নিতে হবে। এই বার চারাগুলিকে মাটির মধ্যে দুই থেকে তিন ইঞ্চি গর্ত করে পুঁতে দিতে হবে এবং মাটিকে জল দিয়ে ভালো করে ভিজিয়ে নিতে হবে।

২. ২০ দিন পরে গাছের চারাগুলি বড় হয়ে গেলে গাছের নিয়মিতভাবে যত্ন নিতে হবে। কোদাল দিয়ে গাছের আশেপাশের জমি হালকা করে কুপিয়ে নিলে শিকড়গুলি তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। এই অবস্থায় সার দিলে তা তাড়াতাড়ি গাছের গোড়ায় পৌঁছতে পারবে।

৩. রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হবে। কিন্তু প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ফলন বাড়াতে গেলে গোবর সারের ব্যবহার করতে হবে। তবে এই সারের ব্যবহারে ফলন একটু ধীরে হবে।

৪. ২০ গ্রামের মত ‘টিএসপি’ সার গাছের গোড়ায় দেওয়ার পরে ৫ থেকে ৮ গ্রাম ফুরাডান দিতে হবে। এর সাথে দিতে হবে ৮ থেকে ১০ গ্রাম ইউরিয়া। সব সার দেওয়ার পরে গোবর সার দিয়ে গাছের গোড়াকে মাটি দিয়ে ভালো করে ঢেকে দিতে হবে। সার দেওয়ার তিনদিন পর থেকে শুধুমাত্র জল দিয়ে যেতে হবে গাছে।

৫. ৪০ দিনের মধ্যে গাছ বড় হয়ে গেলে মাচা বেঁধে দিতে হবে। এইভাবেই ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে করলা গাছ।

প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপাদানের সাহায্যে এইভাবেই করলা চাষ সম্ভব। প্রতিদিনই সবুজ এই সবজির পুষ্টিগুণ পাওয়া যাবে ঘরে বসেই।

Categories
লাইফ স্টাইল

এইভাবে সুজির পকোড়া বানালে স্বাদ হবে দুর্দান্ত, হাত চাটবে আট থেকে আশি, শিখে নিন রেসিপি

বিকেল বেলায় জলখাবারে চায়ের সাথে মুখরোচক স্ন্যাক্স অনেকেরই বেশ পছন্দের। সুজির তৈরী মুখরোচক এই স্ন্যাক্স নিমেষেই মন ভালো করে দেবে। জমিয়ে দেবে চায়ের সাথে আড্ডাটা। বাড়িতে থাকা সামান্য কিছু উপকরণ দিয়েই বানানো যাবে এই পদটি।

উপকরণ-
১. সুজি
২. টক দই
৩. বেকিং সোডা
৪. লবণ
৫. গোটা জিরে
৬. পেঁয়াজ কুচি
৭. কাঁচা লঙ্কা কুচি
৮. কারি পাতা কুচি
৯. ভাজা চিনেবাদাম
১০. সরষের তেল
প্রণালী :

প্রথমে ১০০ গ্রাম সুজিকে মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিতে হবে। একটি মিক্সিং বোলের মধ্যে গুঁড়ো করে রাখা সুজির সাথে মেশাতে হবে স্বাদমতো লবণ , ১/৩ চামচ গোটা জিরে, ১ টি কুচি করে রাখা পেয়াঁজ, ২টি লঙ্কা কুচি ,পরিমানমত টক দই এবং কারিপাতা কুচি।

সমস্ত উপাদান ভালো করে মিশিয়ে নেওয়ার পরে জল দিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরী করতে হবে। এইবার এই মিশ্রণটির মধ্যে দিয়ে দিতে হবে পরিমাণমতো ভাজা চীনাবাদাম এবং অল্প পরিমানে বেকিং সোডা। সমস্ত উপকরণকে মিশিয়ে নিতে হবে ভালো করে।

এইবারে কড়াইতে পরিমাণমত সর্ষের তেল নিয়ে ভালোভাবে গরম করে নিতে হবে। তেল একটু বেশি পরিমানে দিতে হবে কারণ ডুবো তেলেই ভাজা হবে এটি। মিশ্রণ থেকে অল্প পরিমানে নিয়ে তেলের মধ্যে ভালো করে ভেজে নিতে হবে। বেশ কিছুক্ষন ধরে দুই পিঠ লালচে করে ভেজে নিতে হবে।

এইভাবে সমস্ত মিশ্রণ থেকে কিছুটা পরিমান নিয়ে একইভাবে ভেজে নিতে হবে। গরম চায়ের সাথে খাওয়ার জন্য একেবারে তৈরী সুজির তৈরী এই মুখরোচক বড়া।

Categories
লাইফ স্টাইল

মাত্র ৫ মিনিটে ডিম ও আটা দিয়ে বানিয়ে ফেলুন দুর্দান্ত স্বাদের বিকালের নাস্তা, শিখে নিন রেসিপি

সকালের জলখাবারে (Breakfast) বা বিকেলের টিফিনে (Tiffin) ভালো কিছু খাবার খেতে সকলের ইচ্ছে করে। কিন্তু হাজার কাজের মাঝে সবসময় দারুণ কোনো পদ তৈরি করা সম্ভব হয় না। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে আজকে তাই আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেবো এমন এক অভিনব ‘ডিম পরোটা’-র রেসিপি যা খুব কম সময়ে সামান্য কিছু জিনিস দিয়েই খুব সহজে বানিয়ে ফেলা যাবে।

•উপকরণ:
১)ডিম
২)নুন
৩)জল
৪)গরম মশলা গুঁড়ো
৫)গোলমরিচ গুঁড়ো
৬)ময়দা
৭)গাজর কুচি
৮)বাঁধাকপি কুচি
৯)পেঁয়াজকলি কুচি
১০)কাঁচালঙ্কা কুচি
১১)তেল

•প্রনালী:
প্রথমেই একটি মিক্সিং বোলে দুটো ডিম ভেঙে দিয়ে দিতে হবে। এরপরে ডিমের মধ্যে স্বাদ অনুযায়ী নুন দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে। কিছুক্ষণ ধরে ডিম ফেটিয়ে নেওয়ার পর ওই পাত্রে ১/২ কাপ জল দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে। মিক্সিং বোলে এবারে ১/৪ চামচ গরম মশলা গুঁড়ো ও ১/৪ চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে আবারও মেশাতে হবে, খেয়াল রাখতে হবে মশলা যেন দানা দানা হয়ে না থাকে।

এরপর মিক্সিং বোলের ডিমের মিশ্রণের মধ্যে অল্প অল্প ময়দা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে একটি ব্যাটার বানিয়ে নিতে হবে, ব্যাটারের মধ্যে পরিমাণ অনুযায়ী জল দিয়ে পাতলা করে নিতে হবে।

ব্যাটার তৈরি হয়ে গেলে তার মধ্যে একে একে কিছু পরিমাণ গাজর কুচি, কিছু পরিমাণ বাঁধাকপি কুচি, কিছু পরিমাণ পেঁয়াজকলি কুচি ও ইচ্ছে অনুযায়ী কাঁচালঙ্কা কুচি দিয়ে ভালো করে মেশাতে হবে। আপনারা চাইলে এর মধ্যে আপনাদের পছন্দের অন্যান্য সবজিও কুচি কুচি করে কেটে দিয়ে দিতে পারেন।

এবারে গ্যাসে ফ্রাইং প্যান বসিয়ে অল্প তেল ব্রাশ করে ১.৫-২ হাতা ব্যাটার দিয়ে দিতে হবে। গ্যাসের আঁচ কম রেখে পুরো ফ্রাইং প্যানে ব্যাটার ভালো করে ছড়িয়ে দিতে হবে। একদিক ভাজা হয়ে গেলে অপরদিকেও অল্প তেল ব্রাশ করে উল্টে দিতে হবে।

প্রত্যেকটি পরোটা এইভাবে উল্টেপাল্টে নেড়ে নিয়ে ভালো করে ভাজতে হবে। ভালো করে না ভাজলে যে সব সবজি দেওয়া হবে তা কাঁচাই থেকে যাবে। ভাজা হয়ে গেলে হাতা দিয়ে পরোটা মুড়িয়ে নিতে হবে। এক‌ই পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ ব্যাটার থেকে যতগুলি সম্ভব হয় ততগুলি পরোটা ভেজে নিতে হবে। এবারে ফ্রাইং প্যান থেকে নামিয়ে নিয়ে গরম গরম পরিবেশন করে ফেলুন অভিনব এই ‘ডিম পরোটা’।