Categories
লাইফ স্টাইল

প্রতি কেজির দাম ৭৯ হাজার টাকা, পৃথিবীর সবচেয়ে দামি কফি তৈরি হয় এই পাখির মল থেকে

পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত এবং মূল্যবান ‘জ্যাকু বার্ড কফি’(Jacu Bird Coffee) তৈরী হয় বিশেষ এক পাখির বিষ্ঠা থেকে। স্বাদে এবং গুনে এই কফির জগৎজোড়া খ্যাতি রয়েছে। এই খবর কফিপ্রেমীদের বেশ কিছুটা অবাক করবে সেটা বলাই বাহুল্য।

 

 

কফি (Coffee) প্রায় সকলেরই প্রিয় পানীয়র মধ্যে অন্যতম। বিশ্বব্যাপী একটা আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে এই পানীয়র। জনপ্রিয়তায় চায়ের পরেই রয়েছে কফির স্থান। কফি মূলত তৈরী হয় কফি বীজ পুড়িয়ে গুঁড়ো করে। কফিতে উপস্থিত ‘ক্যাফেইন’ (Caffeine) নামক উত্তেজক পর্দার্থের উপস্থিতির কারণে এই পানীয় মানুষের মনে উত্তেজনার সৃষ্টি করে এবং উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর কফি খেলে মন সতেজ হয় এবং শরীরে শক্তি বৃদ্ধি হয়। গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত কফি পান হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তবে বেশি পরিমানে কফি শরীরে প্রবেশ করলে সেটি ক্ষতিকর। তাই পরিমান মতো কফি খেলে তা শরীরের পক্ষে উপযোগী।

কফি প্রেমীদের অনেকেই ‘জ্যাকু বার্ড কফি’র (Jacu Bird Coffee) সাথে পরিচিত। এটি বিশ্বের মধ্যে বিরলতম এবং সবচেয়ে দামি কফি বলে গণ্য করা হয়। মূলত স্বাদ এবং গন্ধের জন্যই এর বিশ্বব্যাপী খ্যাতি রয়েছে। বাজারে সাধারণত যেসব দামি কফি পাওয়া যায় সেগুলো জ্যাকু কফি নয়। এইসব কফি বীজ থেকে তৈরী হলেও জ্যাকু কফি তৈরী হয় একেবারে সম্পূর্ণ ভিন্ন উপাদান থেকে। জ্যাকু কফির মূল উপাদান হল ‘জ্যাকু’ (Jacu) নামে এক তিতির শ্রেণীর পাখির বিষ্ঠা।

এই কফির উদ্ভাবক হলেন ব্রাজিল নিবাসী ‘হেনরিক স্লোপার ডে আরাজো’ (Henrique Sloper de Arajo)। বিপন্ন প্রজাতির এই জ্যাকু বার্ডকে ব্রাজিল আইনের দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে বর্তমানে। এককালে হেনরিকের বাগানে খুব উৎপাত শুরু হয় এই পাখির। এর পরে তিনি এদের বিরুদ্ধে কঠোর কোন ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন।

ইন্দোনেশিয়ায় সিভেটের (Civet) মল থেকে কফি প্রস্তুত করা হয়। ‘সিভেট’(Civet) হল মূলত মার্জার বা বিড়াল জাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণী। এমনকি ভারতে উৎপাদিত হওয়া সবচেয়ে দামি ‘সিভেট কফি’ (Civet Coffee) ভাম প্রজাতির প্রাণীর মল থেকে তৈরী হয়। এই তথ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে হেনরিক সিদ্ধান্ত নেন এই জ্যাকু পাখির বিষ্ঠা থেকে একইরকম ভাবে কফি তৈরী করবেন। শ্রমিকদের সাহায্য এবং নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই পাখির মল থেকে তৈরী করে ফেললেন বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কফি। এই কফির মূল্য ভারতীয় মুদ্রা অনুযায়ী প্রায় ৭৯ হাজার টাকা। এই কফি তৈরী হয় ব্রাজিলের ক্যামোসিম এস্টেটে (Camocim Estate)। আয়তনে এটি ছোট হলেও এটিই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কফির প্রধান উৎপত্তিস্থল।

বিষ্ঠা অনেকের মনেই ঘৃণার উদ্রেক ঘটালেও বিশ্বের সাথে সাথে ভারতেও এই দিয়ে কফি তৈরির প্রচলন বর্তমান। তবে যারা সত্যিকারের কফিপ্রেমী তাঁদের কাছে কফির স্বাদ এবং মাহাত্ম্যই মূল। উপাদান যাই হোক না কেন তাঁরা কফি খাওয়া ছাড়বেন না।