Categories
বিনোদন

Chumki Choudhury: শোকের ছায়া চৌধুরী পরিবারে, মাতৃহারা অঞ্জন কন্যা চুমকি চৌধুরী

গত রবিবার নীরবে যবনিকা পতন ঘটল টালিগঞ্জে। প্রয়াত হলেন স্বনামধন্য পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর (Anjan Choudhury) স্ত্রী জয়শ্রী চৌধুরী (Jaysree Choudhury)।

মহানায়ক উত্তম কুমারের (Uttam Kumar) প্রয়াণের পরে অভিভাবকহীন বাংলা সিনেমাকে দিশা দেখিয়েছিলেন অঞ্জন চৌধুরী। একের পর এক সুপারহিট বাংলা সিনেমা পরিচালনা করেছিলেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই উত্থান ঘটেছে বর্তমানের অনেক জনপ্রিয় নায়ক নায়িকার। তাঁর পরিচালিত সিনেমাগুলির মধ্যে অন্যতম হল ‘শত্রু’ (Shatru) ,’গুরু দক্ষিণা’ (Guru Dakshina) ,’হীরক জয়ন্তী’ (Hirak Jayanti) প্রভৃতি। পরিচালকের সুযোগ্যা কন্যা চুমকি চৌধুরীও (Chumki Chowdhury ) বাংলা সিনেমা জগতে একসময় চুটিয়ে অভিনয় করেছিলেন। ২০০৭ সালে মারা গিয়েছিলেন এই পরিচালক। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির কারণে আজও বাংলা সিনেমা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। স্বামী পরিচালক হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করলেও বরাবরই পর্দার আড়ালে ছিলেন স্ত্রী জয়শ্রী। অঞ্জনবাবুর সফলতার পিছনে তাঁর অবদান অনেকখানি।

স্বামীর মৃত্যুর পরে দুই কন্যা চুমকি এবং রিনা আর একমাত্র ছেলে সন্দীপকে আঁকড়ে ছিলেন জয়শ্রীদেবী। গত কয়েকদিন ধরেই বেশ অসুস্থ হয়ে একবালপুরের এক নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। গত রবিবার মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওয়ের কারণে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। মায়ের মৃত্যুর পরে পুত্র সন্দীপ চৌধুরী (Sandip Choudhury) সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন এই শোকসংবাদটি। অনেক সফল পারিবারিক সিনেমার পরিচালক ছিলেন অঞ্জনবাবু। তাঁর বাস্তব জীবনও সিনেমার থেকে কোনো অংশে কম ছিল না। বাবা মায়ের অমতে পালিয়ে গিয়ে অঞ্জনবাবুর সাথে সংসার পেতেছিলেন জয়শ্রীদেবী। পরে অঞ্জনবাবুর মায়ের নির্দেশে সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তাঁরা। স্বীকৃতি পেয়েছিলেন চৌধুরী পরিবারের বউয়ের। স্বামীর কেরিয়ার গড়ে তোলার পিছনে তাঁর অনেক আত্মত্যাগ রয়েছে। নিজের গয়না বেচে দিয়ে স্বামীকে সাহায্য করেছিলেন প্রযোজনা সংস্থা খুলতে। তবে বরাবরই পর্দার আড়ালে থাকতে ভালোবাসতেন। অনেক প্রতিভা টাকা সত্ত্বেও স্বামীর প্রযোজনা সংস্থার বাইরে কাজ করা অনুমতি কখনো পাননি। ফলে সেইভাবে সামনে আসতে পারেনি তাঁর প্রতিভা। তবে পরিবারের স্বার্থে সবকিছুকে বিসর্জন দিয়ে সংসারেই মন দিয়েছিলেন জয়শ্রীদেবী। ভালো নৃত্যশিল্পী হওয়ার দরুন পরবর্তীকালে দুই কন্যাকে নাচের তালিমও দিয়েছিলেন। তিনি ভালো গানও গাইতে পারতেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী কন্যা চুমকি চৌধুরী। বরাবর সবার আড়ালে থাকা এই শিল্পীর শেষ যাত্রাও হল সবার অলক্ষ্যেই। অনেকেই জানতে পারলেন না কখন চলে গেলেন তাঁদের প্রিয় ‘ঝুনুদি’।

বাংলা সিনেমায় অঞ্জনবাবুর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর সাফল্যের পিছনে রয়েছে স্ত্রী জয়শ্রীদেবীর হাত। একসময় অঞ্জনবাবুর জন্যই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলা সিনেমা জগৎ। অথচ তাঁর সহধর্মিণীর চলে যাওয়ার সময় পাশে ছিল না ইন্ডাস্ট্রির কেউই।