May 18, 2024

ভারতের প্রথম রূপান্তরকামী হয়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক খেতাব জিতেছেন মুম্বাইয়ের নাজ জোশি (Naaz Joshi)। তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত ভারতবাসী।

ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের সাজ পোষাক পছন্দ ছিল নাজের। তাঁর মেয়েলি ব্যবহারের কারণে তাঁর বাবা মা তাঁকে মুম্বাইয়ের এক আত্মীয়র বাড়িতে রেখে এসেছিলেন। সেইখানেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। পরবর্তীকালে নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই চালানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। এর জন্য ১২ বছর বয়স থেকে বারে নাচও করেছিলেন। মেয়েদের মতো পোষাক পড়ার সুযোগ পাওয়ায় বারের কাজকেই একসময় নিজের পেশা করে নিয়েছিলেন। পাশাপাশি চলছিল পড়াশোনাও ।

নাজ এনআইএফটির কৃতি ছাত্রী। ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে স্নাতক হওয়ার পরে এই দিকেই নিজের কেরিয়ার গড়ার দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন তিনি। তবে পড়াশোনার খরচ চালাতে এবং নিজের লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য অর্থের জোগাড় করতে যৌনকর্মী হিসেবেও কাজ করেছিলেন । নিজের তুতো বোনের অকাল মৃত্যুর পরে মডেলিংকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন নাজ। ২০১২ সাল থেকে মডেলিং এজেন্সিতে কাজ শুরু করার দু’বছর পরে ২০১৪ সালের মে মাসে এমপ্রেস আর্থের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। জুন মাসে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।

মোট ১৫ টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছিলেন। সবাইকে হারিয়ে প্রতিযোগিতার প্রথম রূপান্তরকামী হিসাবে সহজেই সেরার খেতাব জিতে নিয়েছিলেন নাজ । নারীদের সাথে অংশ নেওয়ার জন্য অনেক বিদ্রুপের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে। সবকিছুকে তোয়াক্কা না করে ভারতকে গর্বিত করেছেন নাজ। নাজের বুদ্ধিমত্তার কারণে প্রতিযোগিতার শেষ পাঁচে থাকা কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ব্রাজিল এবং স্পেনের সুন্দরীরা পাত্তা পাইনি তাঁর কাছে। প্রথম দিকে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল দুবাইতে। কিন্তু করোনার কারণে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা। নানা ধরণের কাজ দেওয়া হয়েছিল প্রতিযোগীদের। এর পাশাপাশি ইভিনিং গাউন এবং নিজেদের জাতীয় পোশাকে দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল প্রতিযোগীদের। সামাজিক দায়িত্ব পালনের কাজে গ্রামের মহিলাদের আত্মরক্ষার পদ্ধতি নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করে বিচারকদের মন জিতে নিয়েছিলেন নাজ। এমনকি অতিমারী এবং লকডাউন নিয়েও তাঁর চিন্তাভাবনা প্রসংশিত হয়েছিল সেখানে। এর আগে ২০২০ সালে নাজ জিতেছিলেন মিস ইউনিভার্স ডাইভারসিটির খেতাব। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পরপর তিনবার এই খেতাব জিতেছিলেন নাজ। এছাড়া মিস রিপাবলিক ইন্টারন্যাশনাল সৌন্দর্যে রাষ্ট্রদূত হিসেবেও উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি ।

পেশাগতভাবে সফল হলেও এখনও তাঁর সামাজিক অবস্থা খুব ভালো নয়। কারণ এখনো সমাজ তাঁদের মত রূপান্তরকামীদের আলাদা নজরে বিচার করে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে নিয়মিত রূপান্তরকামীদের হয়ে কাজ চলেছেন নাজ। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে দুটি কন্যা সন্তানের জননী তিনি।