Categories
নিউজ

অভিনেত্রী সোনালি ফোগটের মৃত্যু রহস্যে নয়া মোড়, সিসিটিভিতে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলো বিজেপি নেত্রী তথা অভিনেত্রী সোনালি ফোগাট (Sonali Phogat) মৃত্যু রহস্যে । ময়নাতদন্তের ফলে উঠে আসা এই তথ্য অনেকটাই মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এই ঘটনার।

গত ২২শে অগাস্ট সোমবার গোয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৪১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর। জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস সিজন ১৪’ (Bigg Boss – Season 14)এর প্রতিযোগী ছিলেন সোনালী। সোনালীর জন্মস্থান ফাতেহাবাদ। হিসার দূরদর্শনের (Hisar Doordarshan) অ্যাঙ্কর হিসাবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন সোনালী। সেই সময়েই যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পরে অ্যাঙ্করিং ছেড়ে দিয়ে পুরোদস্তুর অভিনয়ে মন দিয়েছিলেন তিনি। অভিনেতা রবি কিষেন (Ravi Kishan) এবং জিমি শেরগিলের (Jimmy Shergill) সাথেও তাঁকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল। জি টিভির ‘আম্মা’ (Amma) নামে সিরিজে অভিনেতা নবাব শাহের (Nawab Shah) স্ত্রীয়ের ভূমিকায় অভিনয় করে বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় ছিলেন প্রয়াত এই নেত্রী। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন বলে সংবাদসূত্রে জানা গিয়েছে। সেই পোস্টে সোনালির পরনে ছিল একটি সাদা কুর্তি ও মাথায় গোলাপি এবং সোনালি রঙের ডিজাইন করা একটি দোপাট্টা দেওয়া পাগড়ি। এমনকি মৃত্যুর আগে কথা বলেছিলেন পরিবারের সাথেও। সোমবার গোয়ায় থাকাকালীন হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছিল, এইখানে নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট এবং এইসব ঘটনা শুনে সেইভাবে অসুস্থ ছিলেন না বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাঁর মৃত্যুকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন অভিনেত্রীর ভাই রিঙ্কু ঢাকা (Rinku Dhaka)। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই সোনালীর আপ্ত সহায়ক সুধীর সাঙ্গোয়ানকে (Sudhir Sangwan) বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।

ভারতীয় দণ্ডবিধি ৩০২ নম্বর ধারা অনুসারে সুধীরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। সুধীর এবং তাঁর বন্ধু সুখবিন্দর ওয়াসির বিরুদ্ধে সোনালীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরে গ্রেফতার করা হয়েছে আরো দুজনকে। গোয়ার যে রেস্তোরাঁয় সর্বশেষ দেখতে পাওয়া গিয়েছিল সোনালীকে সেই রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে কিছ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। রেস্তোরাঁয় যে পানীয় তাঁকে দেওয়া হয়েছিল তাতে মাদক মেশানো ছিল। সহকারীর কাঁধে ভর দিয়ে তাঁকে রেস্তোরাঁকে বেরোতে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল ওই সিসিটিভি ফুটেজে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন সুধীর এবং সুখবিন্দর। বুধবার সোনালীর ভাসুর কুলদীপ ফোগাট এবং সোনালীর দাদা বিকাশ অভিযোগের তীর সুধীরের দিকেই ছিল। জেরায় মাদকের কথা স্বীকারও করেছেন দুই অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রের খবর, সোনালীর পানীয়র মধ্যে ১.৫ গ্রাম এমডিএমএ নামক এক ধরণের মাদক মেশানো হয়েছিল যেটা খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। হোটেল থেকে উদ্ধার হওয়া তাঁর পানীয় জলের বোতলেও মাদকের সামান্য চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।

প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী হৃদরোগকেই সোনালির মৃত্যুর কারণ বলে মনে করেছিল পুলিশ। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসতেই তাঁদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী ভোঁতা কিছু জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল তাঁকে। মাদক খাওয়ার পরে ধর্ষণের অভিযোগও বর্তমানে বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে বেশ ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই মৃত্যু রহস্য। এমনকি মাদক পাচারের ঘটনাও সামনে আসা বিচিত্র নয়।