May 23, 2024

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আরশোলা একটি বিরাট সমস্যা। আমাদের চারপাশে অনেকেই ছোট এবং বড় বাচ্চা বিশেষ করে মহিলারা আরশোলাকে ঘেন্না এবং ভয় করেন। প্রায় সব বাড়িতেই কমবেশি আরশোলার উপদ্রব দেখা যায়। আরশোলা থেকে বিভিন্ন রকমের রোগ জীবানুও ছড়ায়। গরমকালে আরশোলার উৎপাত বাড়ে। বাথরুমের কোনা, রান্নাঘরের তাক এমনকি অফিসের দরকারি কাগজপত্রের মধ্যেও এই বিরক্তিকর পতঙ্গ ঢুকে বসে থাকে। অনেকেই এই পতঙ্গের উৎপাতে নাজেহাল। তবে আরশোলার উৎপাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন দেখে নিই আরশোলা থেকে সহজে মুক্তির উপায়গুলি।

কয়েকটি ঘরোয়া সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে এই আরশোলাকে ঘর থেকে চিরতরে দূর করা সম্ভব।

১) তেজপাতা


আমাদের প্রত্যেকেরই রান্নাঘরে কৌটোয় তেজপাতা থাকে। অল্প পরিমাণ তেজপাতা নিয়ে ভালোভাবে শুকনো কাঠ খোলায় ভেজে গুড়িয়ে নিতে হবে। এরপর ওই তেজপাতার গুড়ো একটি কৌটোয় ভরে রাখুন।সপ্তাহে ১-২ বার ঘরের প্রতিটি কোনায় সেই গুঁড়ো অল্প পরিমাণে ছড়িয়ে দিন। তেজপাতার এই গুঁড়ো থেকে উগ্র ঝাঁঝালো গন্ধ বেরোয় তা আরশোলা সহ্য করতে পারে না। তার ফলে ঘরের আরশোলার উপদ্রব কমবে।

২) অ্যামোনিয়া–

বাজারে বিভিন্ন রকমের আরশোলা মারার বিষাক্ত ওষুধ বিক্রি হয়। তবে সেগুলি সরাসরি বাড়িতে এনে ব্যবহার না করাই ভাল। আপনি বাড়িতেই একটি রাসায়নিক মিশ্রণ তৈরী করতে পারেন। ঘরেতে ৫ লিটার জলের মধ্যে দুই কাপ তরল অ্যামোনিয়া মিশিয়ে রাখতে পারেন। এবার সপ্তাহের দু-তিনদিন সেই তরল দিয়ে ঘর মুছতে হবে। এতে ঘরে আরশোলার উৎপাত কমবে।

৩) বোরিক পাউডার


আরশোলা মারার টোটকা হিসেবে বোরিক পাউডারও খুব কাজে দেয়। অল্প ভাতের সাথে বোরিক পাউডার মিশিয়ে ঘরের বিভিন্ন কোনায় ছড়িয়ে রাখুন। আরশোলা এই ভাত খেলেই মারা পড়বে।

৪) চিনি এবং বেকিং সোডা

আরশোলা সাধারনত চিনি খেতে খুব ভালোবাসে। তাই চিনির সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে যদি ঘরের কোনায় ছড়িয়ে রাখেন সেই চিনি খেলে আরশোলা মারা পড়বে।

৫) লবঙ্গ ও গোলমরিচ

লবঙ্গ এবং গোলমরিচ একসাথে কাঠখোলায় ভালোভাবে ভেজে নিন। এবার মিক্সিতে গুড়িয়ে নিন। লবঙ্গ এবং গোলমরিচের গুড়ো একটি স্প্রে বোতল জলের মধ্যে মিশিয়ে ভরে রাখুন। ঘরের কোনায় কোনায় যে পথ দিয়ে আরশোলা বেশি যাতায়াত করে। সেখানে এই স্প্রে করে রাখুন। দেখবেন আরশোলার উপদ্রব কমে গেছে।

তবে এই সমস্ত টোটকা গুলোর সাথে সাথে নিজের ঘর দুয়ার আপনাকে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ঘরের মেঝে প্রতিদিন মুছুন। আলমারির জামাকাপড়ে ন্যাপথলিন দিয়ে রাখুন। কোন খাবার খোলা ফেলে রাখবেন না যাতে সেখানে আরশোলা বা অন্যান্য কীটপতঙ্গ না পড়তে পারে। এই ঘরোয়া টোটকাগুলি এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে আরশোলার উৎপাত থেকে মুক্তি পাবেন।