Categories
নিউজ

গরুপাচার কাণ্ডে গ্রেফতার গৃহকর্তা, ফাঁকা বাড়ির দরজায় হাজির অবলা গরু

অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal) বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জাঁদরেল নাম। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতির পদে আসীন রয়েছেন‌। তবে বীরভূম জেলার গণ্ডি ছাপিয়ে তাঁর দাপট সারা রাজ্যেই বজায় রয়েছে। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার অনুব্রতকে তাঁর বাসস্থান থেকে সিবিআই গ্রেফতার করেছে, এই খবর নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য আজ উত্তাল হয়ে রয়েছে।

এই কথা সকলেরই জানা যে গরুপাচার মামলায় আটক করা হয়েছে অনুব্রতকে। আজ সকালে সিবিআই আধিকারিকরা প্রায় শতাধিক কেন্দ্রীয় জ‌ওয়ান নিয়ে হাজির হয়েছিলেন অনুব্রতর বোলপুরের নীচুপট্টি এলাকার বাড়িতে, সেখান থেকেই তাঁকে দুর্গাপুর হয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আসানসোলে। সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকরা যখন ‘কেষ্ট দা’-কে তাঁর বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই সময় প্রচুর মানুষ তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন। এমন কী যে রাস্তা দিয়ে অনুব্রতকে গাড়ি করে দিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেই রাস্তার দুই পাশেও অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিজেপি ও বাম সমর্থকরা তাঁদের দলীয় পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে অনুব্রতের উদ্দেশ্যে ‘গরু চোর, গরু চোর’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

তবে এই সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে এক অদ্ভুত ঘটনা। অনুব্রতকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই স্বাভাবিকভাবে এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। এরপরেই হঠাৎ তৃণমূলের নেতার বাড়ির দরজায় এক গরুর দেখা মেলে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেলে তা নিয়ে মজার রোল ওঠে। নেটিজেনদের কারোর মতে, বহুদিন পর ওই গরুটি অবশেষে নিশ্চিন্তে বাইরে বেরোতে পেরেছে; আবার কারোর মতে ওই গরুটি আসলে খোঁজখবর নিতে এসেছে। এই বিষয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিদ্রুপ করে বলেছেন, “অনুব্রতকে সিবিআই তুলে নিয়ে যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে মানুষ চোর-চোর বলে চিৎকার করছে। ওই গরুটিও হয়তো চোর খুঁজতেই এসেছে। এক দিকে মানুষের ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। তেমনই এটা প্রকৃতিও ক্ষোভ দেখাচ্ছে।”

Categories
নিউজ

গরু পাচার কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার অনুব্রত মন্ডল

অবশেষে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। রাজনীতির পাতায় দাপুটে নেতা হিসাবেই পরিচিত অনুব্রত মণ্ডল ওরফে ‘কেষ্ট’দা। এর আগে বেশ কয়েকবার গরু পাচার মামলায় তলব করা হয়েছিল তৃণমূল নেতাকে, কিন্তু বারবারই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এড়িয়ে গিয়েছেন সিবিআই তলব। উল্লেখ্য, মোট দশ বার তলব করা হয়েছিল অনুব্রত মণ্ডলকে, কিন্তু মাত্র একবারই হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। তাও আবার মাত্র আড়াই ঘণ্টার জন্য।

প্রসঙ্গত, যতবারই তাঁকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ঠিক ততবারই দাপুটে তৃণমূল নেতার আশ্রয় হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতাল। শুধুতাই নয়, এসএসকেএমে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ধার্য করা কেবিনে রাখা হত তাঁকে। তবে সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় ইডি-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ঐতিহ্য মেনে তিনিও গিয়েছিলেন এসএসকেএম, তারপরেই তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় ভুবনেশ্বর এইমসে। এইমসে চিকিৎসকদের দল স্পষ্ট জানিয়ে দেয় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার নেই। তারপরেই নড়েচড়ে বসে এসএসকেএম কর্তৃপক্ষ।

গত সোমবার অনুব্রত মণ্ডল সিবিআই-এর তলব এড়িয়ে গিয়েছিলেন এসএসকেএমে চিকিৎসার জন্য, কিন্তু পার্থ কাণ্ডের কথা মাথায় রেখে তাঁকে ভর্তি নেয়নি এসএসকেএম কতৃপক্ষ। তারপরে ফিরে এসেছিলেন বোলপুরের বাড়িতে। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হল না অনুব্রত মণ্ডলের। আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি ঘিরে ফেলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বাড়ির ভেতরে তালা মেরে দেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা।

দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার মতো চলে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব। সূত্রের খবর অনুব্রত মণ্ডলের কোথায় মিলেছে অসঙ্গতি। সেই কারণেই অবশেষে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গ্রেফতার অনুব্রত মণ্ডল। জানা গিয়েছে তাঁকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হবে দুর্গাপুরের সিবিআই দপ্তরে, করা হবে শারীরিক পরীক্ষানিরীক্ষাও। অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, অর্শ, ফিসচুলার মতো একাধিক রোগে আক্রান্ত অনুব্রত মণ্ডল, সেই কারণেই তিনি বারবার এড়িয়ে গিয়েছেন সিবিআইয়ের তলব।