×
Categories
অফবিট

জন্মান্ধ হয়েও আজ কোটি টাকার মালিক, বেকারদের জন্য খুলেছেন কোম্পানি, শ্রীকান্তের জীবন হার মানাবে সিনেমার গল্পকে

Advertisement

এমন অনেক মানুষই আছেন যাঁরা জন্ম থেকেই শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে পৃথিবীতে আসেন। জীবনে কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও তাঁদের এই অক্ষমতা রুখে দাঁড়ায় তাঁদের স্বপ্নের মাঝে। আবার অনেকে নিজেদের এই অক্ষমতাকে দূরে সরিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে সেক্ষেত্রে সমাজের নানান কটুক্তি তাঁদের আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দেয়।

Advertisement

কিন্তু আজ আপনাদের এমন একজন ব্যক্তির পরিচয় দেব যিনি এই সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজের স্বপ্নকে পূরণ করেছেন। এই মানুষটি হলেন শ্রীকান্ত বোল্লা (Srikanth Bolla) যিনি জন্ম থেকেই অন্ধত্বের শিকার। তিনি নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তির দ্বারা ভারতে তৈরী করেন বোলান্ট শিল্প (Bollant Industries)।শ্রীকান্ত বোল্লার জন্ম হয় অন্ধ্রপ্রদেশের মাছলিপত্তনমের সীতারামপুরমে। তাঁর পিতা-মাতা ছিলেন পেশায় কৃষক। কৃষিকাজই ছিল তাঁদের উপার্জনের একমাত্র পথ। শ্রীকান্তের জন্মের পর তাঁর অন্ধত্বের কথা সকলের সামনে আসলে পাড়া-প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজন সকলেই তাঁর বাবা-মাকে নানান রকমের উপদেশ দেন। সকলেই তাঁদের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল না হওয়ায় শ্রীকান্তকে অনাথালয়ের হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানায়। কিন্তু সকলের কথাকে নাকচ করে তাঁর বাবা-মা তাঁকে বড় করার সিদ্ধান্ত নেন। তার জন্য অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়েও যেতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু শ্রীকান্ত বড় হওয়ার পর নিজেকে এমন ভাবে গড়ে তুললেন যে দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় তিনি দুর্দান্ত ফলাফল লাভ করেন।

আরো পড়ুন -  ১ কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে শুরু করেন নিজের কসমেটিক ব্র্যান্ড, আজ সেই ব্যবসার ১০০ কোটি টার্নওভার!

এর পরে তিনি বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে তাঁর অন্ধত্বের কারণে তাঁকে অস্বীকার করা হয়। পরবর্তীকালে শ্রীকান্ত এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন জানান এবং আদালত তাঁকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু আদালত থেকে তাঁকে জানানো হয়েছিল তিনি নিজের দায়িত্বে পড়াশোনা করবেন। পড়াশোনার জন্য তাঁর কোন ক্ষতি হলে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোন দায় থাকবে না।পরবর্তীকালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে তিনি পড়াশোনার জন্য সুযোগ পান। কিন্তু সেখানেও তাঁকে বাতিল করা হয়। কিন্তু তা সত্বেও থেমে থাকেননি তিনি। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে তিনি পড়াশোনা শুরু করেন। সেখানে তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক অন্ধ ছাত্র হিসেবে পরিচিতি পান। এর পর বেশ কিছু বছর তিনি আমেরিকায় কর্পোরেটে কাজ করেছিলেন।কিন্তু তাঁর মধ্যে নিজের দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছে ছিল। তাই তিনি দেশে ফিরে বোলান্ট শিল্পের সূচনা করেন। এই শিল্পে পুরনো প্লাস্টিককে ব্যবহার করে ক্রাফট পেপার বানানো হয়। কিন্তু এই শিল্পের জন্য তাঁর প্রচুর অর্থ সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। সেই মুহূর্তে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন দেশের সবচেয়ে ধনী এবং সহৃদয় ব্যক্তি রতন টাটা (Ratan Tata)।

Advertisement
আরো পড়ুন -  এই ছোট্ট মেয়েটি পেলেন বিশ্বের সেরা সুন্দরী শিশুর শিরোপা, দেখুন তার আসল পরিচয়

এরপর শ্রীকান্ত বোল্লা নিজের বোলান্ট শিল্প শুরু করেন। কিছু বছরের মধ্যেই এই শিল্প ফুলে-ফেঁপে ওঠে। সেই সাথে এই ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি নিজের মত মানুষদের যাঁরা নিজের অক্ষমতাকে দূরে সরিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান তাঁদেরকে সুযোগ দেন।শ্রীকান্ত বোল্লা সেই সকল ব্যক্তিদের অনুপ্রেরণা যাঁরা শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের জন্য কিছু করতে চান। শ্রীকান্তের বাবা-মায়ের সিদ্ধান্ত যে একেবারেই ভুল নয় সেটি সমাজের কাছে সফলভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন তিনি। আজ তাঁর জন্যই বহু মানুষ কাজ খুঁজে পাচ্ছেন। খুব শীঘ্রই বলিউডের পর্দায় এই বিশিষ্ট ভারতীয় শিল্পপতির বায়োপিক নিয়ে আসতে চলেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজকুমার রাও (Rajkumar Rao)। যেখানে শ্রীকান্ত বোল্লার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাঁকে। বলাবাহুল্য, এইরকম এক ব্যক্তিত্বের জীবনীর ওপর নির্মিত ছবি বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আরো পড়ুন -  নেই স্বামী, মাস্টার ডিগ্রী অর্জন করেও মেলেনি চাকরি, অভিনব উপায়ে সংসার চালাচ্ছেন এই গৃহবধূ!
Advertisement