×
Categories
অফবিট

দেহব্যবসা করে চালিয়েছেন পড়াশোনা, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় ৭টি আন্তর্জাতিক খেতাব জয় এই সুন্দরীর

Advertisement

রূপান্তরকামী শব্দটা শুনলেই একটা তীব্র ঘৃণা অথবা সংকোচ ভেসে ওঠে একবিংশ শতাব্দীর মানুষের মনে। এখনো এই ধরনের মানুষদের সমাজে মেনে নিতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়। একজন রূপান্তরকামী হিসেবে বিশ্ব সুন্দরীর তকমা পেয়েছেন নাজ জোশি নামের একটি মেয়ে। যে কোন সাধারণ মানুষ কে হার মানাবে নাজের জীবন যুদ্ধের গল্প।

Advertisement

ছেলেবেলায় নাজের মেয়েলি স্বভাবের জন্য তার প্রতিবেশীরা রীতিমতো তাকে ছোট করতেন। স্কুলে গেলেই চরম বিদ্রূপের মুখে পড়তে হতো তাকে। এই অশান্তির হাত থেকে রেহাই পেতে ছোট্ট নাজকে এক আত্মীয়ের বাড়ি মুম্বাইতে পাঠিয়ে দেয় তার বাবা মা। কিন্তু পরের বাড়ীতে থেকে গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে একটি বারে ডান্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন নাজ। পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য করতে হয় দেহ ব্যবসা। সেই সঙ্গে নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করে এক নতুন জীবন শুরু করেন।

আরো পড়ুন -  অভাবের তাড়নায় করতে হয়েছিল বিয়ে, নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির বলে আজ তিনি IAS অফিসার

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। 2012 সাল থেকে মডেলিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেন নাজ। দু’বছর পর থেকে বিভিন্ন মডেলিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে থাকেন। তবে একাধিক প্রতিযোগিতায় সেরা সেরা শিরোপা জিতলেও তার লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য অনেক খোটা শুনতে হয়েছিল।

Advertisement
আরো পড়ুন -  এই ছোট্ট মেয়েটি পেলেন বিশ্বের সেরা সুন্দরী শিশুর শিরোপা, দেখুন তার আসল পরিচয়

সম্প্রতি মেক্সিকো বেলজিয়ামের মতন পৃথিবীর 10 টি দেশ কে নিয়ে ইম্প্রেস আর্থ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লক ডাউন নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে,নাজ জানান, করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে লকডাউন একটি উপায় মাত্র কিন্তু সচেতনতা বাড়াতে হবে মানুষকে। এই সচেতনতা আর বীজ রোপণ করতে পারে বিশ্বের নামিদামি প্লাটফর্ম গুলি। প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মানুষকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার বার্তা দেন নাজ।

2017 থেকে 19 সাল পর্যন্ত তিনি মিস ওয়ার্ল্ড ডাইভারসিটির সেরা খেতাব পেয়েছিলেন। মিস রিপাবলিক ইন্টারন্যাশনাল সৌন্দর্যের তকমা পেয়েছে তিনি। তবে এত সম্মানের পরেও স্থায়ী কোনো রোজগারের সংস্থান নেই তার।

আরো পড়ুন -  গরিবের স্বপ্নপূরণ, অল্প বয়সে IAS, IPS ও বিচারক হয়ে রেকর্ড গড়লেন ভারতের এই তিন যুবক

ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে টপার এমবিএ পাশ হলেও কেবল লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে আজও তাকে কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং রাস্তায় নেমে হাত পাততে হয় তাকে। বাবা-মা কারো সঙ্গেই যোগাযোগ নেই তার। দুটি সন্তানকে দত্তক নিয়েছে নাজ। একজনকে আইভিএফ পদ্ধতিতে অপরজনকে ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। দুই মেয়েকে নিয়ে দিব্যি কেটে যাচ্ছে অপরাজিত নাজের

Advertisement