×
Categories
নিউজ

গান্ধীজি নয়, নেতাজির কারনে ভারত স্বাধীন হয়েছিল! স্বীকারোক্তি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

Advertisement

ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কার অবদান সবথেকে বেশি নেতাজি না গান্ধিজী? ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস ঘাঁটলেই এই প্রশ্ন উকিঝুঁকি মারে। কেউ কেউ বলেন গান্ধীজীর অহিংস সত্যাগ্রহের মাধ্যমে ইংরেজ সরকার মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছিল। আবার একদল বলেন, নেতাজি তথা আজাদ হিন্দ বাহিনীর দুর্জয় শক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিল ইংরেজ সরকার। অর্থাৎ নানা মুনির নানা মত। তবে পাল্লা ভারী সুভাষচন্দ্রের দিকেই। জেনে নিন ভারত স্বাধীনতার আসল কাহিনী।

Advertisement

১৯৪৬ সাল, রয়েল নৌবাহিনী বিদ্রোহ শুরু করেছিল ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের প্রতীক ছিলেন নেতাজি। তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে বিদ্রোহের দামামা বেজে উঠেছিল। জয়হিন্দ বলে স্লোগান দিয়েছিলেন তারা। এমনকি জাহাজগুলি থেকে যুক্তরাজ্যের পতাকা নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর মনে এই বিদ্রোহের বীজ রোপণ করেছিলেন স্বয়ং নেতাজি।

Advertisement
আরো পড়ুন -  ‘খেলা হবে’, খুব শীঘ্রই ৪জি পরিষেবা চালু করছে BSNL, Airtel-Jio-কে জোর টক্কর

জানা যায়, নেতাজির সামরিক কর্মকাণ্ড ব্রিটিশ সরকারের মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল। চাপে পড়ে ব্রিটিশ সরকার ভারতকে স্বাধীন ঘোষণা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ জে ডি বক্সী নেতাজী সম্পর্কিত একটি জার্নালে প্রকাশ করেছিলেন, ১৯৫৬ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লীমেন্ট এটলি ও পিবি চক্রবর্তীর মধ্যে একটি কথোপকথন। কথায় কথায় এটলি অত্যন্ত ভীত কণ্ঠে জানিয়ে দেন, নেতাজির জন্যই আমরা পিছপা হয়েছি। ওনার সামরিক শক্তি বেশ ভয়ংকর।

আরো পড়ুন -  উধাও শীত, দুই বঙ্গেই দু-এক পশলা বৃষ্টির সম্ভাবনা, পূর্বাভাস মৌসম ভবনের

সেদিন ক্লেমন্ট এটলি কলকাতার পিবি চক্রবর্তীর গেস্ট হাউসে রাত কাটিয়েছিলেন। পিবি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘আমি এটলিকে প্রশ্ন করেছিলাম, ‘আপনারা কী কারণে ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?’ তিনি আমাকে বলেন, ‘নেতাজির সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর মধ্যে ব্রিটিশ রাজের প্রতি বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল। তারা আর অনুগত থাকছিল না।’আমি এও জানতে চাইলাম, ভারত ছাড়ার পেছনে গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের ভূমিকা কতটুকু?’ এটলি বিদ্রুপের হাসি নিয়ে বলেন, মি-নি-মা-ল (যার অর্থ সা-মা-ন্য)।

আরো পড়ুন -  ‘আমি যদি বেঁচে থাকি নেতাজি পারবেন না কেন?’ প্রশ্ন তুললেন ১২৫ বছর বয়সী বাবা শিবানন্দ!

বলা বাহুল্য, নেতাজি ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধের বীজ এমন ভাবে বপন করেছিলেন যে তার মৃত্যুর খবর শুনতেই দেশবাসী ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। নেতাজীর ভূমিকায় প্রথম দিকে আলোকপাত না করা হলেও তাকে নিয়ে প্রকাশিত নানান প্রচ্ছদ ,প্রবন্ধ, বই, জানান দেয় দেশের প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামী তিনি।

Advertisement